⚖️ মৃত্যু কত প্রকার ও কি কি?
- Author: MD Sirajul Islam
- Published: 1 year ago
- Category: অপরাধ বিজ্ঞান
-
মৃত্যু সাধারণত তিন প্রকার। যথা-
(১) মুর্চ্ছা যাওয়া (Syncope);
(২) দম বন্ধ হওয়া (Asphyxia);
(৩) অচেতনাবস্থা (Coma)।
মাবনুষের জৈবিক বৈশিষ্ট্যের অপরিবর্তনশীল বিলুপ্তিই মৃত্যু। এই মৃত্যু দুইটি স্তরে ঘটিয়া থাকে। যেমন-
(ক) দেহগত মৃত্যু,
(খ) কোষগত মৃত্যু।
ফাঁসিতে মৃত্যুর লক্ষণসমূহঃ
(১) চেহারা বিবর্ণ এবং মুখ মণ্ডল শান্ত থাকে তবে কখনও লালচে ও স্ফীত থাকে।
(২) ঠোঁট, নখ, চামড়ায় নীলবর্ণ বা কালশিরা আসিতে চায় এমন দেখায়।
(৩) চোখ অর্ধখোলা অথবা কখনও বাহির হইয়া আসিতে চায় এমন দেখায়।
(৪) চোখের মনি সম্প্রসারিত থাকে।
(৫) জিহবা দাঁতের মধ্য দিয়া বাহিরে আসতে চায় কিংবা দাঁতে চাপিয়া ধরা থাকে।
(৬) থুতনী ও বুকের উপর সোজাসুজিভাবে লালা গড়াইয়া পড়ে।
(৭) যৌন অংঙ্গসমূহে উত্তেজনারভাব দেখা যায়।
(৮) পুরুষাঙ্গ হইতে শুক্র নির্গত হইতে পারে।
(৯) নাক, কান ও মুখ দিয়া রক্তিম তরল পদার্থ নির্গত হইতে পারে।
(১০) মলমূত্র নির্গত হইতে পারে।
(১১) হাত দুইটি অর্ধমুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থাকিতে পারে এবং সেই সাথে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি নিচ দিকে বাঁকিয়ে থাকিতে পারে।
(১২) মৃত্যুর পর অধিক সময় লাশ ঝুলন্ত থাকিলে মরনোত্তর কালশিরা সাধারণত গলার ফাঁসের দড়ির উপরিভাগে এবং দেহের নিম্নাংশের দিকে দেখা যাইতে পারে।
(১৩) গলায় ফাঁসির দড়ির নিচের চামড়ায় রক্ত জমাট থাকিতে পারে।
পানিতে ডুবিয়া মৃত্যুর লক্ষণসমূহঃ
(১) মুখমণ্ডল বর্ণহীন বা ফ্যাকাসে এবং শান্ত দেখাইবে।
(২) চোখ দুইটি বন্ধ বা অর্ধখোলা এবং ঠোঁট নীল দেখা যাইতে পারে।
(৩) মুখের লালা (Saliva) ফেনা আকারে বাহির হইবে এবং নাক হইতে তরল পদার্থ বাহির হওয়া বেশ গুরুত্ব বহণ করিয়া থাকে। বাতাসে এই লালা বা ফেনা সরিয়া গেলেও বুকে চাপ দিলে উহা দেখা যাইতে পারে।
(৪) পুরুষের জননেন্দ্রিয় সংকুচিত থাকে এবং অণ্ডকোষ কুচকাইয়া থাকিতে পারে।
(৫) মহিলাদের স্তন চুপসাইয়া যাইবে।
(৬) মাংসপেশীসমূহ সংকুচিত থাকিবে।
(৭) হাত ও পায়ের নখের মধ্যে পরিধেয় বস্ত্রে, মুখ ও চুলের ভিতরে বালি বা কাদা মাটি, আগাছা লাগিয়া থাকিতে পারে।
(৮) মৃতদেহের পেট পানি ভর্তি হইয়া ফুলিয়া যাইবে।
(৯) হাত দুইটি মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় থাকিতে পারে।
(১০) অনেক সময় লাশের নরম অংশসমূহ মাছ বা অন্যকোনো জলজ প্রাণী খাইয়া ফেলিতে পারে।
(১১) চোখের তারা বড় দেখাইবে।
(১২) জিহবা ফোলা এবং সামনের দিকে প্রসারিত থাকিতে পারে।
(১৩) এই মৃত্যুর ক্ষেত্রে মৃত্যু পরবর্তী কাঠিন্য (Rigor mortis) খুব দ্রুত শুরু হইয়া থাকে।
(১৪) চামড়া হাঁসের চামড়ার মতো দেখাইবে।
(১৫) মৃত দেহ অধিক সময় অর্থাৎ ১০-১২ ঘন্টা পানিতে থাকিলে হাত ও পায়ের চামড়া সাদা ও ভিজা থাকিবে।